Thursday, June 9, 2016

স্কুটার থেকেই সাড়ে চার শতাধিক বাসের মালিক

 কিছু মানুষ আছেন, দারিদ্র্যের কশাঘাত যাদের স্বপ্ন দমাতে পারে না। দারিদ্র্যকে জয় করে যারা স্বপ্ন পূরণ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ‘শ্যামলী পরিবহনের’ চেয়ারম্যান গনেশ চন্দ্র ঘোষ। চুয়ালি্লশ বছর আগে একটি জীর্ণ পুরাতন স্কুটার থেকে একটি চকচকে নতুন বাস কেনার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। পাবনা শহরের শালগাড়িয়ার অভাবী ঘরের সেই গনেশ চন্দ্র ঘোষ আজ গোটা দেশের পরিবহন খাতের এক দিকপাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তার সেই জীর্ণ স্কুটারটি যেন এক চারাগাছ, যা এখন মহীরুহে পরিণত হয়েছে।
তখন কেবল স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব ভালো ছিল না। গনেশ ঘোষদের পরিবারেও ছিল শতেক রকমের অভাব-অনটন। তবু স্বপ্নবান মানুষটি এই অভাব-অনটনের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। পড়াশোনা করার সময়ই তিন চাকার একটি স্কুটার কিনেফেলেন তিনি। জমানো কিছু টাকা তো ছিলই। সঙ্গে ধার-কর্জও করতে হয়েছে। পাবনা শহর থেকে সুজানগর উপজেলা পর্যন্ত স্কুটারে যাত্রী বহন করে যে টাকা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলত। গণেশ চন্দ্র ঘোষ নিজেও স্কুটার চালাতেন। বড় সন্তান হিসেবে সংসারের ঘানি টানতে টানতেই একদিন তিনি পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে রসায়নে সম্মান ডিগ্রিটাও অর্জন করে ফেললেন। মেজ ভাই রমেশ চন্দ্র ঘোষ ও ছোট ভাই রমেন্দ্রনাথ ঘোষ নিয়মিত স্কুটার চালাতেন। আজকের শ্যামলীর বিশাল সাফল্যে এই দুই ভাইয়ের শ্রমও স্মরণীয়। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় ভাই গণেশ চন্দ্রের পাশে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন রমেশ ও রমেন্দ্র।
শান-শওকত আর বিলাসী জীবনযাপন করলে যাত্রীসেবার মানসিকতা থাকে না। সাধারণ জীবনযাপনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আমি গনেশ চন্দ্র ঘোষ
ওই সময় পাবনা শহর থেকে সুজানগর আর পাকশী ফেরিঘাট পর্যন্ত চালানো হতো স্কুটারটি। পাবনা-সুজানগর ১২ কিলোমিটার পথের যাত্রীপ্রতি ভাড়া ছিল পাঁচ টাকা। পাকশী ফেরিঘাট পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার চালিয়ে প্রতিজনে পেতেন ৭-৮ টাকা। প্রতি ট্রিপে চারজন যাত্রী বহন করে যা পাওয়া যেত সে দিয়ে সংসারের খরচ বহনের পর কিছু জমানো হতো। এভাবেই কিছুদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি স্কুটারের মালিক হয়ে গেলেন তারা।
সেই পুরনো স্কুটারটিতেই গোড়াপত্তন হয়েছিল আজকের শ্যামলী পরিবহনের। এই নামটি প্রথম লেখা হয় জীর্ণ-শীর্ণ সেই স্কুটারটির গায়ে। এখন দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের গৌরব বহন করছে সেই নাম। ধর্মীয় চিন্তা থেকেই স্কুটারটির নাম রাখা হয়েছিল শ্যামলী পরিবহন। দেবতা শ্রীকৃষ্ণের শ্যামলী, ধবলী, কাজলী নামের ধেনুর (গাভী) মধ্য থেকেই ‘শ্যামলী’ নামটি রাখা হয়েছিল। মা-বাবাসহ সাত ভাই, চার বোনের ১৩ সদস্যের পরিবারের সদস্যরা বসে আলোচনা করেই ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধ থেকে নামটি রেখেছিলেন।
গণেশ চন্দ্রের এই উদ্যোগে প্রেরণা জুগিয়েছেন তার বাবা মৃত অবিনাশ চন্দ্র ঘোষ। এতকাল পর পুরনো সেই সব দিনের কথা বলতে গিয়ে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বাবার স্মৃতিচারণ করেন। ঢাকায় শ্যামলী পরিবহনের প্রধান কার্যালয় বিলুপ্ত শ্যামলী সিনেমা হলের খুব কাছাকাছি একটি ভবনে। সেখানে ছোট্ট একটি টেবিল, একটি কাঠের চেয়ার। এখানে বসেই প্রতিদিন অফিস করেন চেয়ারম্যান গণেশ চন্দ্র ঘোষ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখোমুখি বসেন তিনি। অতি সাধারণ পোশাকে নম্রতা ও ভদ্রতার এক এক মূর্ত প্রতীক যেন। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মানুষটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, এমডিরা আধুনিক অফিসে বসেন, বিলাসবহুল জীবন-যাপন করেন, আপনি তাদের থেকে ভিন্ন কেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘শান-শওকত আর বিলাসী জীবন-যাপন করলে যাত্রী সেবার মানসিকতা থাকে না। এই সাধারণ জীবন-যাপনেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি আমি।’ জীবনের এক পর্যায়ে তিনি পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের রসায়ন বিভাগে প্রদর্শক শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসরে যান ২০০৯ সালে।
সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত মানুষটি এখন শ্যামলী পরিবহন নামে এক সাম্রাজ্যের অধিকর্তা। জীবনের চড়াই-উৎরাই পার করে আজ তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন খাতের সার্থক এক ব্যবসায়ী। তার শ্রম, মেধা ও কঠোর পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।
শুরুতে স্বপ্নটা এত বড় ছিল না। নতুন একটি বাসের মালিক হবেন_ এই স্বপ্নটুকুই পুঁজি ছিল গণেশ চন্দ্রের। তিনি বললেন, স্বাধীনতার পর প্রথম যে স্কুটারটি তিনি কিনেছিলেন সেটি কেনা হয়েছিল ১৯৭২ সালে। দাম কত পড়েছিল ঠিক মনে নেই। তবে যতদূর মনে করতে পারেন ৭-৮ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল পুরনো ওই স্কুটারটি। পরে আরও কিছু টাকা খরচ হয়েছিল স্কুটারটি সংস্কার করতে। এক সময় পুরনোটির সঙ্গে যুক্ত হয় আরও কয়েকটি স্কুটার।
পরে স্কুটারগুলো বিক্রি করে যে টাকা হয়েছিল তা দিয়ে একটি পুরনো বাস কেনা হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। তখনও নতুন বাস কেনার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে যায়। রাজশাহী থেকে নগরবাড়ি পর্যন্ত চালানো হতো পুরনো ওই বাসটি। বাস চালিয়ে উপার্জিত অর্থ, পরিবারের সদস্যদের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থ এবং সোনালী ব্যাংক পাবনা জেলা শাখা থেকে নেওয়া ঋণের টাকায় ১৯৭৮ সালে কেনা হয় চকচকে একটি নতুন বাস। সেদিনই পূরণ হয় গণেশ চন্দ্রের নতুন বাস কেনার স্বপ্ন। তখন থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর বছরে বছরে কেনা হয় নতুন নতুন বিলাসবহুল আধুনিক বাস।
১৯৭২ থেকে ৪৪ বছর পর আজ পরিবহন সেক্টরে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গণেশ চন্দ্র ঘোষ। দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও চলে তিল তিল করে গড়ে তোলা শ্যামলী পরিবহনের বাস। দেশে-বিদেশে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার টিকিট কাউন্টার। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ শিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে এই পরিবহনে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিধি ক্রমে বেড়েই চলেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সর্বত্র চলে শ্যামলী পরিবহনের বাস। অর্থাৎ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া শ্যামলীর সেবা আছে সর্বত্রই। আন্তর্জাতিক রুটের মধ্যে ঢাকা-কলকাতা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-শিলং-গৌহাটি-ঢাকা, ঢাকা-বুড়িমারি-শিলিগুড়ি, চট্টগ্রাম-ঢাকা-কলকাতায় (ট্রানজিট) চলছে শ্যামলীর বাস। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রুটে চালানো হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ১০টি অত্যাধুনিক বাস। দেশের অভ্যন্তরে শ্যামলী ব্র্যান্ডের বাসের সংখ্যা ৪শ’ ৫০টি। এর মধ্যে অর্ধশত বাস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
এখন দেশে-বিদেশে শ্যামলী পরিবহন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। তাদের আধুনিক একটি চেয়ার কোচের দাম ৭০ লাখ টাকা। অত্যাধুনিক বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বাসের দাম দেড় কোটি থেকে পৌনে দুই কোটি টাকা। একদিন যারা জীবনের তাগিদে ৭-৮ হাজার টাকায় পুরনো স্কুটার কিনে চালাতেন আজ তারাই পৌনে ২ কোটি টাকায় আন্তর্জাতিক মানের বাস কেনেন। দেশ-বিদেশে যারা দারিদ্র্যের রাহু থেকে মুক্ত হয়ে জীবনসংগ্রামে জয়ী হয়েছেন, তারাই আজ ওইসব দেশে ইতিহাসের অংশ। শ্যামলীও আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।
চুয়ালি্লশ বছর আগের ৭-৮ হাজার টাকার বিনিয়োগ আজ ৪০০ কোটির ঊধর্ে্ব পেঁৗছেছে। পাবনা-ঢাকা প্রথম বাস সার্ভিস চালু হয় ১৯৭৯ সালে। কুষ্টিয়া-ঢাকা প্রথম নাইট কোচ চালু করা হয় ১৯৮১ সালে। আন্তর্জাতিক রুটে বাস চলাচল শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। আন্তর্জাতিক রুটে বাস চালানোর জন্য ওই সময় সরকারি উদ্যোগে এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল খ্যাতনামা ১২টি বাস কোম্পানি। তার মধ্যে গুণগতমানসহ সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে নির্বাচিত হয় শ্যামলীর বাস। ওই সময়ই ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বাস চালানোর জন্য সরকারের সঙ্গে শ্যামলী কর্তৃপক্ষের এক চুক্তিও হয়েছিল।
বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে শ্যামলী পরিবহনের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। এই সাম্রাজ্যে প্রত্যক্ষভাবে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করে। দেশের ভেতরে টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা তিনশ’র বেশি। প্রতিষ্ঠানের জিএম, অঞ্চলভিত্তিক ম্যানেজার, কাউন্টার মাস্টার, টিকিট বিক্রেতা, চালক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব বিভাগ, মেইনটেন্যান্স, প্রধান মেকানিক, সহকারী, সার্ভিসিং সেন্টার, ক্লিনিং, চেকআপ, বডি মেরামত গ্যারেজ, পার্কিং অ্যান্ড ফুয়েলিং স্টেশনসহ নানা ইউনিট রয়েছে।
পরিবহন খাতের ঝুঁকি সম্পর্কে গণেশ চন্দ্রের মেজ ভাই শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেছেন, ফুটবল খেলে মারধর করা হলেও একপর্যায়ে গাড়ি ভাংচুর শুরু হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও রাস্তায় চলা গাড়িগুলো হয়ে ওঠে প্রধান শত্রু। শুরু হয় ভাংচুর। সবচেয়ে ভয়ানক হলো পুড়িয়ে দেওয়া। একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হলে সেটি সচল করার মতো কোনো অবস্থা থাকে না। মুহূর্তেই মূল্যহীন হয়ে যায় দামি একটি বাস। এরপর দুর্ঘটনাতো আছেই।
শ্যামলী পরিবহনের কোনো বাস দুর্ঘটনার শিকার হলে দুর্ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী অফিসের দায়িত্বশীল লোক দ্রুত সেখানে চলে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন। শ্যামলী পরিবহন কর্তৃপক্ষই এই চিকিৎসার খরচ বহন করে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সাধ্যমতো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কাছে গিয়ে সহমর্মিতাও জানানো হয়।
শ্যামলী পরিবহনের চেয়ারম্যান গণেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘যাত্রী সেবাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। একটি গাড়ি গন্তব্যে পেঁৗছতে যাত্রীদের যতটুকু সেবা দেওয়া দরকার আমরা ততটুকু দিই। যাত্রীরাই আমাদের অমূল্য সম্পদ। সেবা দিয়ে আমরা তৃপ্তি পাই।’ তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল বলেই দেশের পরিবহন খাতের উন্নয়নের আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছি।

প্রথম২৪ডটকম/ইউডি/এনএস/এমজে/ ১ জুন ২০১৬

রেন্ট-এ কার এর ব্যবসা

ঘুরতে যাওয়া কিংবা যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন হয় গাড়ি। এ জন্য দ্বারস্থ হতে হয় রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ীদের কাছে। এ ব্যবসায় লাভও বেশ ভালো। নিজের গাড়ি না থাকলেও ভালো যোগাযোগ থাকলেই শুরু করতে পারেন এ ব্যবসা। আর হাতে কিছু পুঁজি থাকলে তো কথাই নেই। রেন্ট-এ কার ব্যবসার খুঁটিনাটি জানাচ্ছেন ইফতেখার রহমান
প্রথম দিকে গাড়ির মালিক এবং গ্রাহকের মাঝে মধ্যস্বত্বকারী হিসেবেই শুরু করতে পারেন। এ জন্য খুব বেশি পুঁজির প্রয়োজন হবে না। শুধু একটি দোকান বা অফিস হলেই চলবে। প্রথম দিকে দোকানের জায়গা ছোট হলেই চলবে। তেমন সাজসজ্জারও প্রয়োজন নেই। তবে চেয়ার-টেবিল ও একটি আলমারি থাকলে ভালো হয়। এ বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। দুটি গাড়ি নিয়ে শুরু করতে পারেন। আর নিজস্ব গাড়ি নিয়ে শুরু করলে দক্ষ এবং বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ দিতে হবে। এলাকায় পরিচিতি, ধৈর্য এবং সুষ্ঠু পরিকল্পনা সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অন্যান্য ব্যবসার মতো রেন্ট-এ কারের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্সের। এর সঙ্গে বিআরটিএ থেকে রেন্ট-এ কার ব্যবসার অনুমতিও নিতে হয়। সেই সঙ্গে স্থানীয় রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য হতে পারেন।
তবে নিজস্ব গাড়ির জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন কাগজপত্রের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোড পারমিট, লাইসেন্স, বীমা ইত্যাদি। আট হাজার টাকা দিয়ে ট্যাক্স-টোকেনও করিয়ে নিতে হবে। গাড়ির কাগজপত্রের জন্য দালালের দ্বারস্থ না হয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে কাগজ করানো উচিত।
কোন গাড়ির চাহিদা বেশি এবং দরদাম
প্রাইভেট কার এবং মাইক্রো_এ দুই ধরনের গাড়িই গ্রাহকরা বেশি ভাড়া নেয়। তবে গাড়ি যেটাই হোক না কেন এর রং, নতুনত্বই গ্রাহককে বেশি আকৃষ্ট করে। তাই গাড়ির মলিকের সঙ্গে চুক্তির সময় এ দুটি বিষয় খেয়াল রাখবেন। আর নিজেই গাড়ি কিনতে চাইলে টয়োটা গাড়ির শোরুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে সুপার জিএল গড়পড়তায় ২৪-২৬ লাখ টাকা, এক্স করোলা ২২ লাখ টাকা, প্রিমিও ৩০ লাখ টাকা, এলিয়ন ২৮ লাখ টাকা, হায়াস ২৬ লাখ টাকায় কিনতে পারবেন। তবে পুরনো গাড়ি ৩ ভাগের ২ ভাগ বা এর চেয়েও কম দামে কিনতে পারবেন।
গাড়ি কিনবেন কোথা থেকে
রাজধানী ঢাকার কাকরাইল, তেজগাঁও, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির শোরুম আছে। এসব শোরুম থেকে কিনতে পারেন। এ ছাড়া আমদানিকারকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেও পছন্দ অনুযায়ী গাড়ি কিনতে পারেন।
গাড়ি ভাড়া দেওয়ার পদ্ধতি
বডি ভাড়া, প্যাকেজ এবং মাসিক ভাড়া_এই তিনভাবে গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। বডি ভাড়া পদ্ধতিতে গাড়ির গ্যাসসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ সেবাগ্রহীতা বহন করেন। এ ক্ষেত্রে এক দিনের জন্য গ্রাহককে দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্যাকেজ পদ্ধতিতে দূরত্ব বিবেচনা করে গ্রাহকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। মাসিক ভাড়া পদ্ধতিতে কিলোমিটার হিসাব করে ভাড়া আদায় করা হয়। বিভিন্ন কম্পানি মাসিক ভাড়া পদ্ধতিতে রেন্ট-এ কার থেকে গাড়ি ভাড়া নেয়।
লাভ কেমন
রেন্ট-এ কার ব্যবসায় লাভের পরিমাণ নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। গাড়ি নিজস্ব না হলে প্রতি হাজারে ১০০ টাকা কমিশন পান রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী। আর নিজস্ব গাড়ির ক্ষেত্রে ভাড়ার পুরোটাই চলে আসে রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ীর পকেটে। মাসিক ভাড়ার ক্ষেত্রে কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া পাওয়া যায়। প্রতি কিলোমিটার আট থেকে দশ টাকা হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয়। তবে গাড়ির পরিমাণ যত বেশি থাকবে এবং যত বেশি ভাড়া দেওয়া যাবে, লাভের পরিমাণ তত বেশি।
আনুষঙ্গিক
রেন্ট-এ কার ব্যবসার পাশাপাশি দোকানে অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও করতে পারেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জ, ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ করতে পারেন।
কিছু টিপস
* রেন্ট-এ কার ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে পরিচিতির ওপর।
* গাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে গ্রাহক সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে।।
* পরিচিত, দক্ষ এবং বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ দিতে হবে।
* গাড়ির আনুষঙ্গিক কাগজপত্র যথাসময়ে নবায়ন করিয়ে নিতে হবে।

খাবারের ফেরিওয়ালা

খাবারের ফেরিওয়ালা দুই ভাই সজল ও জসীম (ডানে)। আদালত চত্বরে খাবারের বক্স হাতে দেখা মিলল তাঁদের। ছবি: আসাদুজ্জামানজসীম ও সজল। আপন দুই ভাই। একজনের বয়স ২৯ বছর। আরেকজনের ২১। তাঁদের আরেক পরিচয় তাঁরা ‘খাবারের ফেরিওয়ালা’।


রোজ ঢাকার আদালতে বক্সে করে খাবার সরবরাহ করেন ওই দুই ভাই। খাবারের দাম ৫০ টাকা। খাবার খান আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবীরা।
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ঘুম থেকে উঠে পড়েন তাঁরা। এরপর মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে যান। তাঁদের মা জামিলা বেগম শুরু করেন রান্না। শেষ হয় সকাল আটটা থেকে নয়টায়। পরে দুই ভাই মিলে খাবার বক্সে তোলেন। এরপর সেই বক্সগুলো নিয়ে দুপুরের আগেই চলে আসেন ঢাকার আদালত চত্বরে। পরে একে একে খাবারের বক্স পৌঁছে দেন গ্রাহকের টেবিলে টেবিলে।
তবে আজ মঙ্গলবার থেকে দুই ভাইয়ের ছুটি। তাঁরা আসেননি আদালতে। রমজান শুরু হওয়ায় দুপুরে খাবার বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। জানতে চাইলে জসীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার থেকে আমাদের ছুটি শুরু। এক মাস আমরা বেকার থাকব। রোজার পর আবার নিয়মিতভাবে খাবার দেওয়া শুরু করব। ছয় বছর ধরে এই কাজ করেই সংসার চালাই। আর কোনো কাজ শিখিনি।’
জসীমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ছয় বছর আগে খাবার বিক্রি শুরু করেন। ১০টি খাবারের বক্স দিয়ে তাঁর ব্যবসা শুরু। প্রতিটির দাম নেন ৫০ টাকা। খাবারের তালিকায় ভাতের সঙ্গে কোনো দিন থাকে ডিম, ভাজি ও ডাল। আবার কোনো দিন থাকে মাংস ও মাছ। খাবারের মান ভালো হওয়ায় তাঁর খাবারের চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। ব্যবসা শুরুর দিকে ১০ থেকে ১৫ জনকে খাবার দিতেন। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক শতে।
ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের পেশকার আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জসীমের খাবারের মান খুব ভালো। দাম কম। মাত্র ৫০ টাকা। তাই কয়েক বছর ধরে তিনি জসীমের দেওয়া খাবার খান। আদালতের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই তাঁর খাবার খেয়ে থাকেন।
জসীমের বাড়ি থেকে আনা এই খাবারের বক্স গুলোই একে একে পৌঁছে যায় আদালতের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনজীবীদের কাছে। ছবি: আসাদুজ্জামানজসীমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সংসারে আছে তাঁর মা, বাবা, স্ত্রী ও এক ভাই। ডেমরার ভাড়া বাসায় থাকেন সবাই মিলে। খাবারের ব্যবসা শুরু করার সময় সজল পড়াশোনা করতেন। তখন তিনি একাই খাবার দিতেন। সজলকে এসএসসি পাস করিয়েছেন। পরে লেখাপড়া না করায় তাঁকে ব্যবসার কাজে লাগিয়েছেন।
সজল বলেন, অভাবের সংসার। তাই আর পড়াশোনা করিনি। বড় ভাই খাবার বিক্রি করে সংসার চালান। তিন বছর আগে ভাইয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
মানিকগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা জসীমের বৃদ্ধ বাবা আবদুল আউয়াল বয়স বেশি হওয়ায় এখন আর কোনো কাজ করতে পারেন না। মা জামিলা খাতুন সবদিক দেখেন। ৫০ বছর বয়সী জামিলা খাতুন প্রতি শনিবার যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচাবাজার করেন। মাছ-মাংস কেনেন জসীম।
‘আগের চেয়ে মাছ, মাংস, তরিতরকারির দাম বেড়ে গেছে অনেক গুণ। তারপরও মাত্র ৫০ টাকায় খাবার বিক্রি করতে হয়। তাই লাভ আর বেশি থাকে না।’ বলেন জসীম।
জসীমের স্বপ্ন খাবারের হোটেল দেওয়া। জসীম বললেন, খাবারের এই ব্যবসা অনেক কষ্টের। ভোর থেকে শুরু হয় কাজ। শেষ হয় রাতে। পুঁজি বেশি হলে তিনি ফেরি করে খাবার বিক্রির ব্যবসা করবেন না। আদালত এলাকায় খাবারের হোটেল দেবেন। এ স্বপ্ন কবে পূরণ হবে, তা তিনি জানেন না। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

ধার করা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে রেড হেরিংয়ের তালিকায়

তার ছিল স্বপ্ন আর ৪০ হাজার টাকার পুঁজি। তা-ও ধার করা। এটা নিয়েই তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার যুদ্ধে নামেন। গড়ে তোলেন ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেড। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে রেডহেরিং ডট কমের (আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর র‌্যাংকিং তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি) এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তালিকায়। তারা ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রাফেল কবীর। 
পুঁজি ছিল মোটে ৪০ হাজার টাকা তাও আবার নগদ নয়, ধার করা। ওই টাকা দিয়ে কেনা হলো কম্পিউটার। মাত্র একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে ‘উদ্যোক্তা' হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলি। ওই একটি কম্পিউটার আর  যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সফটওয়্যার দিয়েই আমরা শুরু করি ই-মেইল সেবাদানের কাজ। আসলে পুঁজি বা নগদ টাকা না থাকা কোনও সমস্যা নয়। থাকতে হবে উদ্ভাবনী আইডিয়া।
 বাংলা ট্রিবিউন: ডিএনএস কিভাবে রেডহেরিংয়ের তালিকায় জায়গা করে নিল?
 রাফেল কবীর: ওরা আমাদের কোম্পানির কাগজ-পত্র দেখে অনলাইনে আমার ইন্টারভিউ করে। হয়তো ওরা দেখেছে, যে ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানকে ওরা তালিকায় জায়গা দেয় ডিএনএস সেসব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে পেরেছে। তাছাড়া আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেড়ে ওঠাটাও হয়তো ওদের আকৃষ্ট করেছে।
 বাংলা ট্রিবিউন: ডিএনএস-এর বেড়ে ওঠাটা কেমন ছিল?
 রাফেল কবীর: পুঁজি ছিল মোটে ৪০ হাজার টাকা তাও আবার নগদ নয়, ধার করা। ওই টাকা দিয়ে কেনা হলো কম্পিউটার। মাত্র একটি কম্পিউটারকে সম্বল করে ‘উদ্যোক্তা' হওয়ার দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলি। ওই একটি কম্পিউটার আর  যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা সফটওয়্যার দিয়েই আমরা শুরু করি ই-মেইল সেবাদানের কাজ। আসলে পুঁজি বা নগদ টাকা না থাকা কোনও সমস্যা নয়। থাকতে হবে উদ্ভাবনী আইডিয়া।
 বাংলা ট্রিবিউন: তালিকায় স্থান পাওয়ার বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
 রাফেল কবীর: এটা অবশ্যই একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্মানের। আমরা রেডহেরিং ডট কমের ‘২০১৫ টপ এশিয়া: শর্ট লিস্টেড কোম্পানিজ’ –এ ছিলাম। এশিয়ার তালিকা নিয়ে ওরা হংকংয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। ওখানে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। ভালো করলে গ্লোবাল র‌্যাংকিংয়ে জায়গা পাওয়া যায়। গ্লোবাল পর্যায়ের অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে হয়। ওখানেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। তবে কোনওটিতেই অংশ নেওয়া হয়নি আমাদের অফিসের নানান ধরনের সমস্যায়। ওখানে অংশ নিতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং করা যেত।
 বাংলা ট্রিবিউন: কি ধরনের সুবিধা পাওয়া যেত বলে আপনি মনে করেন?
 রাফেল কবীর: এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বড় হওয়ার সক্ষমতা এবং সামর্থ দুই-ই রয়েছে। ফলে সহজেই বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ে আকৃষ্ট করা সম্ভব। তুমি কি ধরনের ফান্ডিং চাও, সব পাওয়া সম্ভব। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ বাড়ায় এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার ঘটনাটি।
 বাংলা ট্রিবিউন: মূলত কি ধরনের প্রভাব ফেলে রেড হেরিংয়ের এই তালিকা স্থান করে নেওয়ার বিষয়টি?
 রাফেল কবীর: গ্লোবালি ব্যবসা করতে গেলে এটা রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। এ ছাড়া গ্লোবাল এক্সপোজার বাড়ে, বেড়ে যায় প্রতিষ্ঠানের ভ্যালু। আমার জানা মতে, ফেসবুকের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ পর্যায়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। আজ  কোথায় ফেসবুক। ভারত ও চীনের অনেক প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় সব সময় জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের ভবিষ্যতও ভালো। দারুণ ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম তারা। এই তালিকা দেখে এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের একটি সাময়িকী (ম্যাগাজিন) ‘অ্যাকুইজিশন’ আমার ইন্টারভিউ নিয়েছে। ম্যাগাজিনটি ফান্ড, কোম্পানি অ্যাকুইজেশন বিষয় নিয়ে কাজ করে।
এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির বড় হওয়ার সক্ষমতা এবং সামর্থ দুই-ই রয়েছে। ফলে সহজেই বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়ে আকৃষ্ট করা সম্ভব। তুমি কি ধরনের ফান্ডিং চাও, সব পাওয়া সম্ভব। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ বাড়ায় এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার ঘটনাটি।
 বাংলা ট্রিবিউন: আপনি একজন বুয়েট  প্রকৌশলী হয়েও কেন অন্য পেশায় গেলন না?
 রাফেল কবীর: আসলে আমি সব সময় স্বাধীনভাবে কিছু একটা করতে চেয়েছি। ব্যবসাটাই ছিল আমার টার্গেট।উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রকৃতিকভাবে কিছু গুণ হয়তো আমার ভেতর ছিল। এ কারণেই ব্যবসায় এসেছি। তবে ব্যবসা করতে চাইলে সবার আগে ব্যবসাটা বুঝতে হবে। বুঝতে হবে, কোথায় ব্যবসা আছে? ওটা যে আমি করতে পারব সেটাও বুঝতে হবে। সর্বপোরি নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। আবেগও থাকতে হবে। টাকা উপার্জনের জন্য ব্যবসা করলে সেই ব্যবসা কখনওই হবে না। টাকা হচ্ছে রেসিডিউয়াল ইম্প্যাক্ট,তোমার যদি ব্যবসা ভাল হয় টাকা এমনিই আসবে।
 বাংলা ট্রিবিউন: কেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেই বেছে নিলেন?
 রাফেল কবীর: আমি সবসময় নতুন কিছু করতে চেয়েছি। ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করেছি বলে এখনও যে ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছি তা তো নয়। সব সময় নতুনের সন্ধান করেছি। যদি ট্রেন্ডটা ফলো করা যায়, তাহলে নতুন কিছু আসছে কি না তা বোঝা যায়। 
 বাংলা ট্রিবিউন: আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় কোন দিকটা উজ্জ্বল হবে বলে আপনি মনে করেন?
 রাফেল কবীর: এটা আসলে শিক্ষা ব্যবস্থার মতো। আমরা জানি না আসলে কোন দিকে, কোনটার কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে। তবে আমরা যেহেতু সব সূচকে এগিয়ে আছি, আমরা এগিয়ে যাব। আমরা পিছিয়ে থাকব না। তবে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বিষয়ে বলা যেতে পারে। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ আসলে সার্ভিসে। আমি চাইলেও এখন আর ফেসবুক বা মাইক্রোসফট বানাতে পারব না। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা সেবা পরিচালনার জন্য এ বিষয়ক সেবার জন্য অ্যাপস বা সেবাধর্মী কিছু একটা বানাতে পারব। ওই সেবা দিয়েই ভবিষ্যৎ চলবে।
আমি সবসময় নতুন কিছু করতে চেয়েছি। ইন্টারনেট দিয়ে শুরু করেছি বলে এখনও যে ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে আছি তা তো নয়। সব সময় নতুনের সন্ধান করেছি। যদি ট্রেন্ডটা ফলো করা যায়, তাহলে নতুন কিছু আসছে কি না তা বোঝা যায়।
 বাংলা ট্রিবিউন: দেশে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে আপনার উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাই।
 রাফেল কবীর: এটা শিক্ষার মতো একটা বিষয়। এই জায়গাটার বৈষম্য পূরণ হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। গ্রামের দিকে বিদ্যুৎ নাই, কম্পিউটার নাই। থাকলেও তারা ব্যবহার করতে পারে না। কারণ কম্পিউটারের ব্যবহার ইংরেজিতে। দেশের সব জায়গায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছেনি। বৈষম্যের পেছনে এসব একটা বড় কারণ। নতুন যে প্রজন্ম আসছে তারা এসব দিকে অনেক এক্সপার্ট। ১০-১৫ বছর পর এই বৈষম্যটা এমনিতেই কমে যাবে।
ছবি: সংগ্রহ
/এইচএএইচ/